চুলকানি হলে নিম পাতার ব্যবহার


শরীররের চুলকানি হলে নিম পাতার ব্যবহার অত্যন্ত উপকারী। প্রাচীনকাল থেকেই নিম গাছের প্রতিটি অংশ  আয়ুর্বেধিক চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে। নিম পাতা একটি ঔষধি গাছ, যার ডাল, পাতা এবং গাছের ছাল ইত্যাদি সবকিছুই মানুষের বিভিন্ন কাজে লাগে। এটি প্রাকৃতিক চিকিৎসায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে পরিচিত।

চুলকানি-হলে-নিম-পাতার-ব্যবহার

নিয়মিত নিম পাতা ব্যবহার করলে ত্বক, চুল,পেট, লিভার এবং শরীরের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে এটি অসাধান ভূমিকা রাখে। তাহলে চলুন মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। শরীরে চুলকানি হলে নিম পাতার ব্যবহার কিভাবে করব। 

পেজ সূচিপত্রঃ চুলকানি হলে নিম পাতার ব্যবহার যেভাবে করবেন

চুলকানি হলে নিম পাতার ব্যবহার

আপনার শরীর যদি চুলকানি হয়ে থাকে, এবং এই চুলকানি হলে নিম পাতার ব্যবহার কিভাবে করবেন তা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন। আমাদের সমাজের বিভিন্ন লোকের চুলকানির সমস্যা থাকতে পারে। এবং এই চুলকানির সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। এলার্জি, দাঁত,ফাঙ্গাস এবং চুলকানির সমস্যাই আমরা অনেকেই ভুগে থাকি। এজন্য আমরা ফার্মেসি থেকে ওষুধ, খাই বিভিন্ন ক্রিম ব্যবহার করি, তবুও এই সমস্যা থেকে আমরা চিরতরে নিস্তার পাইনা। 

আপনারা কি জানেন আমাদের আশেপাশে আয়ুর্বেধিক এবং অত্যন্ত উপকারী অনেক গাছ আছে যেগুলো আমরা এড়িয়ে চলি।সেগুলোর মধ্যো থেকে একটি হল নিম গাছ। হ্যাঁ আপনি ঠিকই শুনেছেন, হয়তো ভাববেন নিম গাছ থেকে আবার কিভাবে উপকার পাবো। কিন্তু আল্লাহ তাআলা প্রাকৃতিক সৃষ্টির মধ্যে এমন কিছু উপকার রেখেছে যেগুলো আমরা অনেক ডাক্তারের কাছ থেকেও পাই না। নিম পাতা বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করা যায় তার মধ্য থেকে আমি দুইটি মাধ্যম আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম।

আরও পড়ুনঃ অ্যালোভেরার মাধ্যমে বিভিন্য উপকারিতা 

১ঃ নিম পাতার পেস্টঃ কিছু তাজা নিমপাতা নিয়ে এসে ভালো করে পেস্ট বানিয়ে, ওই পেস্ট আপনার আক্রান্ত স্থানে ১৫ থেকে ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখবেন। এরপর ধুয়ে ফেলবেন, এভাবে দিনে এক থেকে দুইবার যদি আক্রান্ত স্থানের লাগিয়ে রাখেন তাহলে আসাকরি কিছু দিনের মধ্যেই ভাল ফলাফল পাবেন ইনশাআল্লাহ।

২ঃ নিম পাতার পানি দিয়ে গোসলঃ এক মুঠো নিমপাতা কিছু পানিতে দিয়ে ভালো করে পানি ফুটিয়ে নিবেন, এর পর যখন পানি হালকা একটু ঠান্ডা হয়ে আসবে, ওই পানি দ্বারা আক্রান্ত স্থান ধুয়ে ফেলবেন।এবং ওই পানি দ্বারা আপনি চাইলে গোসল করতে পারেন। আশা করি ভালো ফলাফল পাবেন ইনশাআল্লাহ।

নিম পাতার উপকারিতা সম্পর্কে

১ঃ নিমপাতা শরীরের চুলকানি এবং এলার্জি দূর করে।

২ঃ নিমপাতা ত্বকের দাগ ব্রণ এবং মেস্তা দূর করে।

৩ঃ নিম পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের রাখতে সহায়তা করে।

৪ঃ নিম পাতা পানিতে দিয়ে, পানি ফুটিয়ে ওই পানি দিলে মাথায় ব্যবহার করলে মাথার খুশকি দূর হয়।

৫ঃ নিমপাতা পানিতে দিয়ে পানি ফুটিয়ে ওই পানি চোখে দিলে চোখের চুলকানি দূর হয়।

৬ঃ নিম পাতা ও কাঁচা হলুদ একসাথে শরীরে ব্যবহার করলে শরীরে এলার্জি দূর হয়।

৭ঃ নিম পাতার রস পান করলে শরীরের রক্ত পরিষ্কার হয়।

৮ঃ নিম পাতা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

৯ঃ মিমের ডাল দিয়ে দাঁত মাঝলে মাড়ি অনেক মজবুত হয়, এবং দাঁতের পক্ষে এটা অনেক উপকারী।

নিম পাতার অপকারিতা সম্পর্কে

নিম পাতার যেমন উপকারিতা রয়েছে, ঠিক তেমনি নিম পাতার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। নিমপাতা যদি আমরা দীর্ঘদিন খেতে থাকি তাহলে আমাদের স্কিন ড্রাই বা খসখসে হয়ে যেতে পারে। এছাড়াও যদি আমরা অতিরিক্ত নিমপাতার রস খাই তাহলে আমাদের কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এরপর আমরা নিমের তেল এবং মিমের ছাল ভিজিয়ে অনেক সময় খেয়ে থাকি। কিন্তু যেসব মহিলা প্রেগনেন্ট এবং যেসব মহিলারা বাচ্চাদেরকে স্তন দান করেন, সেসব মহিলাদের ক্ষেত্রে এগুলো খাওয়া বিপদজনক হতে পারে। 

এরপরও যদি কোন প্রয়োজনে খেতে হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও অতিরিক্ত নিম পাতার রস খেলে পেটের নানা সমস্যা হতে পারে। বদহজম হতে পারে, গ্যাসের সমস্যা হতে পারে এবং ডায়রিয়াও হতে পারে ইত্যাদি। নিমপাতায় যেহেতু অনেক উপকারিতা রয়েছে সেজন্যে অতিরিক্ত খাওয়া যাবেনা। অতিরিক্ত খেলে এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে। দিনে তিন থেকে চারটি নিম পাতা খেলে কোন ক্ষতি হবে না। তবে এটাও নিয়মিত প্রতিদিন খাওয়া যাবে।

ত্বকের যত্নে নিম পাতার ব্যবহার

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। বর্ষায় আমাদের অনেকের ত্বক অনেক সময় প্রাণহীন ও মলিন দেখায়। এমন পরিস্থিতিতে নিম পাতা ব্যবহারের জন্য আমাদের ত্বক ফিরে পাই নতুন উজ্জ্বলতা। কারণ নিম পাতায় রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল ও এন্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এটা ত্বকের ভেতর থেকে পরিচর্যা করে ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বক মসৃণ করে। কারণ নিমপাতা প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। 

চুলকানি-হলে-নিম-পাতার-ব্যবহার

নিম পাতা ব্যবহারের ফলে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয়ে, ত্বক মসৃণ ও নরম হয়। এরপর ত্বকের ব্রণ, পিম্পল এবং ফুসকুড়ি কমাতে নিম পাতার ব্যবহার অপরিহার্য। নিম পাতা আমরা ত্বকে যেভাবে ব্যবহার করব? কিছু তাজা নিমপাতা নিয়ে পেস্ট বানাবো এবং ওই পেস্ট ত্বকে ব্যবহার করব। ১৫ থেকে ২০ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখবো। এরপর ধুয়ে ফেলবো। এভাবে যদি আমরা নিয়মিত নিমপাতা ব্যবহার করতে পারি, তাহলে দেখবেন ত্বকের নতুন উজ্জ্বলতা ফিরে এসেছে।

খালি পেটে নিম পাতা খাওয়ার উপকারিতা

সকালে খালি পেটে নিম পাতা অথবা নিম পাতের রস খেলে আমাদের শরীরের কুষ্ঠ কাঠিন্য দূর হবে। এরপর আমাদের যখন পেট ব্যথা হয়। কারো ভাজাপোড়া খাওয়ার জন্য অথবা খাবারের নিয়ম ঠিক না থাকার জন্য পেট ফুলে যায় পেট ব্যথা হয় এরপরে কৃমি থেকে মুক্তির জন্য। এরপর আমাদের শরীরে যেগুলো ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে, সেগুলো খাবার অথবা অন্য কোন জিনিসের মাধ্যমে আমাদের শরীরে প্রবেশ করে। 

আমরা যদি সঠিক নিয়মে সকালে খালি পেটে দুই থেকে তিনটি নিম পাতা চিবিয়ে খাই অথবা রস করে খাই তাহলে আমরা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবো। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে নিমপাতা মিমের ডাল নিম গাছের ছাল এগুলো সবগুলোই উপকারী তাই বলে আমাদের অতিরিক্ত এগুলো খাওয়া যাবেনা।

নিম পাতার বড়ি খেলে কি হয়

নিম পাতার বড়ি এটিও অনেক উপকারী। যেমন নিম পাতা এবং নিম পাতার রস খেলে শরীরের অনেক উপকার হয়। ঠিক তেমনি নিম পাতার বড়ি খেলেও শরীরের অনেক উপকার হয়। এখন ভাবছেন নিম পাতার বড়ি কিভাবে বানাবেন! তাহলে চলুন জেনে নেই নিম পাতার বড়ি কিভাবে বানাতে হয়। প্রথমে কিছু তাজা নিম পাতা নিবেন সেগুলো শিল পাটাতে অথবা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিবেন। এরপর সেগুলো হাত দিয়ে ছোট ছোট বড়ির মতো করে বানাবেন। তাই বলে বেশি ছোট করা যাবে না কারণ রোদে শুকাইলে সেগুলো আরো ছোট হয়ে যাবে। 

আরো পড়ুনঃ ঘরোয়া মাধ্যমে রোগমুক্ত থাকার উপায়

এবং সেগুলো দুই থেকে তিন দিন রোদের শুকাইবেন যাতে করে বড়ির ভেতরেও ভেজা ভাব যেন না থাকে। এরপর প্রতিদিন সকালে অথবা রাতে ঘুমানোর পূর্বে একটি করে বরি খাবেন। এটা খেলে কি উপকার পাবেন কারণ নিম পাতায় রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট যা রক্তে জমে থাকা টক্সিক উপাদান শরীর থেকে বের করে দেয়। এবং নিম পাতার বড়ি খেলে শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল হয় ইত্যাদি।

এলার্জি হলে নিম পাতার ব্যবহার

এলার্জির কারণে অনেক ডাক্তার অনেক রোগীকে বিভিন্ন খাদ্য থেকে বিরত থাকতে বলেন। এবং এলার্জির জন্য একটি বিশাল খাদ্য তালিকার একটি লিস্ট হাতে ধরিয়ে দেন, এবং বলেন এগুলো থেকে বিরত থাকবেন। যেমন গরুর মাংস, হাঁসের মাংস, হাঁসের ডিম, ইলিশ মাছ, পুঁটি, বোয়াল, বেগুন, কচু এবং পুঁইশাক ইত্যাদি। কারণ এলার্জির কারণে অনেকের ত্বক চুলকায় এবং গোল গোল চাকা চাকা হয়ে লাল হয়ে যায়। কারো চোখ চুলকায় এর দ্বারা চোখ লাল হয়ে ফুলে ওঠে। এলার্জি থেকে মুক্তির জন্য নিম পাতা যেভাবে খাবেন।

 প্রথমে কিছু নিম পাতা ভালো করে বলে শুকিয়ে নিব। তারপর শুকনো নিম পাতা শিল পাটায় অথবা ব্লেন্ডারের ব্লেন্ড করে। নিম পাতার গুড়া একটি ভালো পাত্রে রাখবেন। এরপর এক গ্লাস পানিতে এক চামচের তিন ভাগের এক ভাগ নিমপাতার গুড়া এবং এক চা চামচ ইসবগুলের ভুষি দিয়ে আধাঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এবং দুপুরে খাবারের পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে খাবেন। এভাবে নিয়মিত একমাস খাওয়ার পর আশা করি এলার্জির সমস্যা কিছুটা হলেও কমে আসবে ইনশাআল্লাহ।

চর্মরোগ হলে নিম পাতার ব্যবহার

চর্ম রোগ থেকে মুক্তির জন্য নিম পাতার ব্যবহারও অত্যন্ত উপকারী। চর্মরোগ খুব মারাত্মক রোগ এটা খুব সহজে হয় কিন্তু এটা ভালো হতে অনেক সময় লাগে বিশেষ করে বর্ষার সময় আদ্রতার কারণে চর্ম রোগ হয়। এবং খুব সহজে এই চর্মরোগটা জন বসতির মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগ থেকে মুক্তির জন্য বর্ষাকালে যেহেতু এই রোগের সম্ভাবনা বেশি হয় সেহেতু ভেজা কাপড় পড়ে থাকা যাবে না। এবং ময়লা পানি ব্যবহার করা যাবে না। ময়লা পানিতে নামা যাবে না। শরীর এবং হাত পা সব সময় শুকনো রাখতে হবে। 

আরো পড়ুনঃ ঘরোয়া পদ্ধতিতে চুলকানি দূর করার উপায়

এবং এই রোগ হলে নিম পাতা কিভাবে ব্যবহার করবেন তা সম্পর্কে জেনে নেই। কিছু নিমের ছাল এবং নিমের বীজ নিম পাতার সঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে। এরপর যেখানে যেখানে চর্মরোগ হয়েছে এবং দেখা যাচ্ছে সেই জায়গাগুলোতে লাগিয়ে দিতে হবে।এরপর নিম পাতার রস খেতে পারেন। এবং নিমপাতার গুড়া রাত্রে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে খেতে পারেন। এগুলো দ্বারা আশা করি চর্মরোগ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবেন ইনশাল্লাহ।

শেষ কথা: লেখকের মন্তব্য

প্রিয় পাঠক আপনারা হয়তো নিশ্চয়ই আমাদের আজকের আর্টিকেল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে সম্পূর্ণ পড়েছেন এবং বুঝতে পেরেছেন যে নিম পাতার উপকারিতা, নিম পাতার অপকারিতা, এলার্জি হলে নিম পাতার ব্যবহার, ত্বকের জন্য নিম পাতার ব্যবহার এবং চর্ম রোগের জন্য নিম পাতার ব্যবহার ইত্যাদি। 

আমাদের আজকের আর্টিকেল আপনার কাছে কেমন লেগেছে তা আপনার মূল্যবান মতামতটি আমাদের কমেন্ট বক্সে জানিয়ে দিন। আজকের আর্টিকেল পড়ে আপনার কাছে যদি ভালো লাগে এবং উপকারী মনে হয় তাহলে আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করে দিন। ধন্যবাদ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

মাই ট্রাফিক মলের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url